ঠিক কয়েক ঘন্টা আগে ৩ বার

8 / 100
Rate this post

ঠিক কয়েক ঘন্টা আগে ৩ বার কবুল বলে নতুন একটা পরিবারে এসেছি । আমার বর তাও আবার হুজুর। বিষয়টা আমার বোধগম্য হচ্ছে না কিছুতেই । আমার মতো একটা আধুনিকা কি না ওল্ড স্টাইল ম্যান বিয়ে করেছি? কিভাবে সম্ভব? অবশ্য ইচ্ছেতে তো বিয়ে করিনি। জোর করে বিয়ে দিয়েছে। ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আর কি?

কত্তোবার বলেছিলাম আমার দ্বারা এসব সংসার সংসার খেলা সম্ভব না। কেউই শুনলো না আমার কথাটা। আরে আমার জন্যে কত্ত স্মার্ট ছেলে লাইন দিয়ে থাকে। রাস্তায় বেরোলে কত্তো ছেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে,,,, সে আমি কি না এই ওল্ড ফ্যাশন টাইপ হাবি নিয়ে…….. ভাবতেই পারিনা জাস্ট।

কাঁচা কলাপাতা আর হলুদ রঙের মিক্সড করা সুতির শাড়ির সাথে তাজা সূর্যমুখী ফুল আর হলুদ গোলাপ দিয়ে সাজানো হয়েছে আমায় আবার নতুন করে। সাজ টা খারাপ না,,,,,বেশ মানিয়েছে। নিজেকে কেমন যেনো নতুন নতুন ই লাগছে। কয়েকজন মিলে আমারে একটা বড় রুমে দিয়ে গেলো। এটাই মেবি ওল্ড ফ্যাশন লোকটার রুম। ওরা চলে যেতেই আমি রুমের দরজা লক করে নিজের কয়টা ফটো নিলাম। পুরো বিয়েটাই আমার ঘরোয়াভাবে হয়েছিল। অথচ আমার কিনা বিয়ে নিয়ে কতশত প্ল্যান ছিলো। হলুদের প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে রিসিপশন পর্যন্ত পার্লার,,,ফটোসেশন কিছুই হইলো না।

তারপর ঘরটা ডেকোরেশন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলাম। লোকটা যতই ওল্ড স্টাইল ম্যান হোক না কেনো,,,,ঘরের ডেকোরেশন জাস্ট ওয়াও।

দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পাশেই সুন্দর একটা ড্রেসিং টেবিল,,,,কর্নারে একটা ডাবল ড্রয়ারের ছোট্ট একটি ড্রয়ার। তার পাশেই বড় খাট। খাটের বেশ খানিকটা খালি জায়গায় আছে। প্রবেশ দরজার বিপরীতে ব্যলকনির দরজা। আর তার পাশেই ৩ জন বসার মতো একটা সোফা পাশেই মাঝারি আকারের একটা বুকসেল্ফ । বাকি দেওয়াল টায় গ্লাসের দরজা। ওপাশটায় কি আছে তা জানার জন্যে যেই হাত বাড়ালাম সেই মুহূর্তে দরজায় ঠকঠক শব্দ।

তড়িঘড়ি করে সব জিনিসে একবার চোখ ঘুরিয়ে নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিয়ে দরজা খুলতে এগিয়ে গেলাম।

দরজা খুলে দাঁড়াতেই লোকটাকে সালাম জানিয়ে ঘরে আসার জায়গা দিয়ে সরে এসেছি দ্বার প্রান্ত ছেড়ে।

লোকটা নিজেও সালাম দিয়েই রুমে আসে। আমি জানি সালাম জানিয়ে ঘরে আসতে হয়। কিন্তু মেনে চলাটা খুবই কম আমার ক্ষেত্রে। তাও কি মনে করে লোকটা কে সালাম জানালাম বুঝে উঠতে পারছি.

—‘ নামায শেষ?

কিছুটা ঘাবড়ে গেছিলাম,,, আমি এতোক্ষণ ভাবনার জগতে ছিলাম কি না তার জন্যে।

—‘ জ্বী না।

—‘ ওদিকটায় ওয়াশরুম,,,ওজু করে এসো।

—‘ আচ্ছা।

বলেই গ্লাসটা সরাতে যাবো তখনই বাঁধা পড়লো।

—‘ দাঁড়াও।

—‘ হু?

—‘ আমি দেখিয়ে দিচ্ছি সব,,,,এসো।

—‘ আমিও বাধ্য স্ত্রীর মতো তাঁকে অনুসরণ করছি।

মূলত গ্লাসের ওপাশে একটা রুম। একপাশে ওয়াশরুম,, পাশের দেয়ালটায় একটা ছোট্ট রুম। মাঝে যেই খালি জায়গা আছে তাতে আলমারি রাখা। আমারে দেখিয়ে দিচ্ছেন লোকটা।

ঐ ছোট্ট ঘরটা দেখিয়ে বলেন যে এটা নামাযের জন্যে। নামায এইখানটায় পড়বে।

আমিও মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম।

তারপর আমি ওজু সেরে নামাযের জন্য ঐ ঘরটায় গেলাম দেখি লোকটাও নামায পড়ছে। আমিও নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম।

নামায শেষ করে দেখি ওনার নামায এখনও শেষ হয়নি। আমি রুমে এসে ভাবছি কেমনে কি করবো? লোকটাকে দেখলেই যেনো সব রাগ গলে পানিতে পরিণত হয়। কোনোভাবেই এড়িয়ে চলা যাচ্ছে না। কি হচ্ছে এসব? কিছুই মাথায় আসছে না আমার।

Leave a Comment