একাকীত্ব না ভালোবাসা ?

67 / 100

দেখাশোনা করে নয়, প্রেম করেই বিয়ে হয়েছিলো সুজাতার। আজ দুই বছর পার হয়ে গেল সেই শুভদিনের। সুজাতা দেখতে শুনতে ভালো বলে অনেক ছেলে ঘুরঘুর করতো ওর পিছনে, স্কুল-কলেজে পড়াকালীন।

A Love Beyond The Society

তোর বউয়ের তো ৭মাস চলছে

অসম্পূর্ণ ভালোবাসা | ছোঁয়া লেগেছিল মাএ

কিন্তু সেরকমভাবে কাউকে পাত্তা দেয়নি সে। কারণ সুজাতা চাইতো এক স্বপ্নের পুরুষ, একটিই পুরুষ যার সাথে সে কাটাবে সারাটা জীবন। সেই স্বপ্ন সত্যিও হয়েছে তার। কলেজে থার্ড ইয়ারে পড়াকালীন তার আলাপ হয় রোহিতের সাথে। রোহিত একটি মাল্টি ন্যাশানাল কম্পানিতে কর্মরত। দুজনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়।

সুজাতার বাড়িতে এক কথায় মেনে নেয় রোহিতকে, রোহিতের বাড়ি থেকেও সুজাতাকে আপন করে নেওয়া হয়। তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুজাতা ভেবেছিলো যে সে তার জীবনের সবটুকু পেয়ে গেছে। সে যা যা স্বপ্ন দেখেছিল সেই সব স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। তাই মনের সুখে সংসার করছিলো নব দম্পতি।

sutapa-halder-p-28

        কিন্তু, ইদানীং সংসারে যেন মন লাগেনা সুজাতার। কলেজে যারা সুজাতার পিছনে পড়েছিল তার মধ্যে একজন ছিল সুমন, সুজাতার ক্লাসমেট। একই ডিপার্টমেন্ট, একই ক্লাসরুম হওয়া সত্ত্বেও সুজাতা কোনোদিন ভালো করে দেখতই না সুমনের দিকে।

কিন্তু, সুমন খুব ভালোবাসতো সুজাতাকে। সেই সুমন আবার ফিরে এসেছে সুজাতার জীবনে। রোহিত চাকরি সুত্রে যখন অফিসে থাকে, তখন খুব একা লাগে সুজাতার। একটা বোরিং ভাব কাজ করে তার মধ্যে। মোবাইলের স্ক্রিনে তখন চোখ রাখে সে।

এরকমই একদিন ফেসবুকের পাতা ওলটাতে ওলটাতে সুমনের চার বছরের পুরনো ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে সে। সঙ্গে সঙ্গে সুমনের ম্যাসেজ, ‘হাই, একসেপ্ট করলে তাহলে!’ এখান থেকে তাদের কথা বলা শুরু। তারপর শব্দের জলধারা কথার সাগর হয়ে বইতে বইতে কখন যে পৌঁছয় সুজাতার মনের গভীরে সুজাতা বুঝতেও পারেনি।

sutapa-halder-p-07

        প্রতিদিন তাদের কথা বলা শুরু হয় সকাল দশটা নাগাদ। তারপর দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যে গড়ায়, তাদের কথা আর ফুরায় না। কত কথা যে বলে তারা তার হিসাব রাখা সম্ভব নয়। সুজাতা আজকাল অপেক্ষা করে রোহিতের অফিস যাওয়ার।

সন্ধ্যাবেলা রোহিতের ফেরার সময় হলে তার মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু এরকম তো হওয়ার কথা ছিল না। রোহিত অফিস থেকে বাড়ি ফিরলে আগে তো কত আনন্দ হত সুজাতার। কিন্তু এখন আর হয়না কেন! এর উত্তর কি খুঁজে পায় সুজাতার সাজানো মন?

রোহিতকে দেখে আগে যেমন উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভেঙে পড়তো, এখন আর তা হয় না কেন? সুজাতা ভাবে, ভাবনার গহ্বরে তলিয়ে যায়। সুমন কি সুজাতার একাকিত্তের সঙ্গী? নাকি সে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছে সুমনকে? সুজাতা অবাক হয়ে যায়। একই জীবনে সত্যিই কি দুজনকে ভালবাসা যায়? এও কি সম্ভব?

sutapa-halder-p-29

        একদিন রাতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় সুজাতার। রোহিত ঘুমাচ্ছে পাশে। কিন্তু সুজাতা টেক্সট করে সুমনকে। হঠাৎ এই সময়ে সুজাতার টেক্সট পেয়ে অবাক হয় সুমন। সুমনকে আরও অবাক করে দিয়ে সুজাতা লেখে, ‘ভালোবাসি’। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে আসে সুজাতার। রোহিতের ঘুম ভাঙে একটু। সুজাতাকে বুঝতে না দিয়ে রোহিত লক্ষ করে সব।

        পরের দিন তুমুল অশান্তি বাধে সুজাতা আর রোহিতের। রোহিত সুজাতার ফোন চেক করে। তারপর রাগের বশে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ফোন। সুজাতাকে আঘাত করে সরিয়ে দিয়ে চলে যায় রোহিত এবং বলে যায় যে এরপর সে আসবে উকিলের সাথে ডিভোর্সের পেপার নিয়ে।

        অঘোরে কাঁদতে থাকে সুজাতা। কান্নার ফোঁটা তার গাল বেয়ে নেমে এসে টুপ করে ঝরে পড়ে কোলে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে অর্ধেক ভেঙে গেছে সেটা, কাজ করছে না আর। প্রায় হতভম্ভ, পাগল পাগল অবস্থায় সুজাতা ভাবতে থাকে যে সে এখন কী করবে? ঠিক সেই সময় পিছন থেকে একটা গলার আওয়াজ পায় সে, ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি তো’। সুজাতা পিছনে তাকায়।

sutapa-halder-p-30

একি! এ যে সুমন! সুমন বলে যে সে সুজাতাকে ভালবেসেছে এতদিন, তাই সে জানতো যে সুজাতা কোথায় থাকে। টেক্সটের রিপ্লাই আসছে না দেখে সে বুঝতে পারে যে কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। তাই সে সকাল হতেই চলে আসে এখানে। সেদিন সুজাতা বুঝতে পারে যে, যাই হয়ে যাক, সত্যিকারের ভালোবাসা কোনোদিনও মরে না, মরতে পারে না।

Leave a Comment