শুভ, ছেড়ে দাও প্লিজ।আমার খুব ভয় করছে।যদি কিছু হয়ে যাই।

53 / 100

প্লিজ,নীলা একটাবার আমায় বিশ্বাস করো। আজ অন্তত আমায় রিজেক্ট করোনা ।

— না শুভ , এসব আমায় বলো না । আমি কখনো পারবো না এসব করতে ।
— অহ আচ্ছা,নীলা তুমি তাহলে আমায় একটুও ভরসা করো না , তাই তো !
— ধুর , সেটা কখন বললাম ! কিন্তু আমি ওসব কখনো পারবো না এখন । যা হবে বিয়ের পরে হবে।

— বোঝার চেষ্টা করো একটু । আজ আমার জন্মদিন আর এই জন্মদিনে একটা ছোট্ট উপহার চেয়েছি তোমার থেকে । সেটাও তুমি দিবে না ?তাছাড়া আমরা তো বিয়ে করবোই।

— শুভ প্লিজ , এটা আমি মানতে পারলাম না , সরি ।
— ওহ্ , আমাদের পাঁচ – পাঁচটা বছরের সম্পর্কের কোনো দাম নেই তোমার কাছে , তাই না ?!
— না শুভ বিষয়টি তেমন নয় , তুমি আমায় একটু বুঝতে চেষ্টা কর ! আমি ….. মানে এসব আমার ঠিক পছন্দ নয় ।

— কেন ? ভয় লাগছে তোমার ? দেখো , প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে দেখবে তোমার খুব আরাম লাগবে । আমার কাছে আসো ………. কিগো ! কি ভাবছো ?
— আচ্ছা , তুমি সত্যিই আমায় বিয়ে করবে তো ? তোমার বাড়িতে আমাদের ব্যপারটা জানে ?
— ওসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না । বাবা – মা তোমাকে খুব পছন্দ করে । নিজের মেয়ে মনে করে । আর আমিতো তোমাকেই ……………

— কেন জানি না , কিন্তু মন-টা বড়ো কু-ডাক ডাকছে । যদি খারাপ কিছু হয় ?
— না রে পাগলি , ওসব শুধু একটা ফালতু ধারণা মাত্র । বাদ দেও ওসব । কাছে আসো । আজ তোমাকে এমন আদর করবো , যেটা তুমি ভুলতেও পারবে না কোনোদিন ।

— জানো , বাড়িতে বলে এসেছিলাম কলেজ যাচ্ছি । ওরা ভাবছে মেয়ে হয়তো কলেজেই আছে এখনো । নিজেকে কেমন যেন মিথ্যেবাদী মনে হচ্ছে আমার । প্লিজ , এসব বাদ দিলে হয় না !

— না , হয় না । আরেব্বাবা , তুমি এখন ম্যাচিওড হয়ে এসব বোকাবোকা প্রশ্ন করলে মানায় ? দেখো , একটা রিলেশনশিপে সেক্স মাস্ট । এতে দু’জনেরই শরীর ও মন ভালো থাকে ।

— কিন্তু …………………….
— কোনো কিন্তু নয় । আমার মুড এসে গেছে । আমি আর পারছি না । প্লিজ নীলা , আই নিড ইউ । আই জাস্ট …………..

____নীলা আজকে খুব সেজেগুজে এসেছে। শুভর পছন্দনুযায়ী নীল শাড়ি, সবুজ চূড়ি, খোপায় বেলি ফুলের মালা,ঠোটে লাল লিপিষ্টিক দিয়ে এসেছে। নীলাকে দেখে যে কেউই বলতে দ্বিধাবোধ করবে না যে স্বর্গ থেকে নেমে আসা অপ্সরা।

— বছর কুড়ি’র মেয়েটার কাতর আবেদন চাপা পড়ে যাই তার ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে , ক্রমশ ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলা ‘প্রেমিক’ নামক এক পৈশাচিক যুবকের শরীরের নীচে । এক হাতে নীলা-কে বিছানায় ফেলে তার ওপর চড়ে বসলো শুভ । পাগলের মতো হড়বড়িয়ে খুলতে লাগলো নীলা-র চুড়িদার ।

শুভোর লোভাতুর চোখ চকচকিয়ে উঠলো তরুণী মেয়েটার নরম , ফর্সা সুগঠিত স্তনযুগলের ভাঁজ দেখে । শাড়িটি প্রায় একটানে খুলে ফেলে হিংস্র নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো নরম , ভয়ে – লজ্জায় কুঁকড়ে যাওয়া শরীরটার ওপর । শুভর ঠোঁট দুটি চেপে ধরলো নীলার ঠোঁট দুটিকে। নীলা শুভর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছে।কিন্ত কোন ভাবেই নীলা নিজেকে ছাড়াতে পারছেনা ,শুভ নিজের মতো পৈশাচিক আনন্দে মেতে উঠেছে।

শুভ, ছেড়ে দাও প্লিজ।আমার খুব ভয় করছে।যদি কিছু হয়ে যাই। ধুর,কিছু হবেনা তুমি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছো।এই কথা বলেই শুভ পূর্বের ন্যায় কাজ শুরু করে দিলো ।

অহ,শুভ আমি আর পারছি না। খুব ব্যাথা পাচ্ছি আমি। ছেড়ে দাও আমায় প্লিজ শুভ। কথাগুলো নীলা বলছিলো আর চোখ থেকে অজস্র পানি নাকে মুখে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়েছিলো।

“এইতো আর একটু জান। আমার হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই শুভ হিংস্র পশুর ন্যায় নীলার সুন্দর দেহকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। নীলা হঠাৎ করে লক্ষ্য করলো তার প্রচুর পরিমানে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। নীলা ভয়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাই।

_নীলার রক্তক্ষরণ হওয়াই কিছুটা মন খারাপ হলেও শুভ নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বলে। ও কিছুনা,নীলা। তুমি চিন্তা করো না। মেডিসিন ব্যবহার করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রথম প্রথম একটু রক্তক্ষরণ হবেই। এতে ভয় পাবার কিছু নেই।

__ প্রায় একমাস পর কফিশপে মুখোমুখি বসে নীলা আর শুভ । টেবিলের ওপর দুটো স্যুপ প্রায় ঠান্ডা হয়ে এসেছে । নীলা মুখ নিচু করে নিজের স্যুপে একটা চামচ নিয়ে নাড়ানাড়ি করছে । শুভ হাতের মোবাইলে কি সব যেন খুটখাট করতে ব্যস্ত । তারপর কি যেন মনে পড়াতে মুখ তুলে বললো ,

— হ্যাঁ বলো , কি জন্য ডেকেছো আজ ?
— না মানে ……..
— কি তোতলাচ্ছো কেন ! ঠিক করে বলো।
— আমার না কেমন যেন ভয় ভয় লাগছে ।
— ভয় ………… কিসের ভয় ?

— গতমাসে পিরিয়ড হয়নি । এমাসেও ডেট পেরিয়ে গিয়েছে । বাড়িতে কিছু বলতে পারছি না । খুব অসহায় লাগছে ।
— এসব নিয়ে অ্যাতো ভাবনার কি আছে ? হয়নি , হবে । দু’দিন দেরিই না হয় হোলো , তাতে অসুবিধা কি হয়েছে ?

— তুমি বুঝতে পারবে না । আমার মনে কেমন যেন একটা খারাপ ধারণা জন্মাচ্ছে ।
— তোমার মনটাই খারাপ । থামো তো । সবকিছুতে একটা না একটা ফালতু কথা না বললে তোমার দিন কাটে না ।
— আমি কিন্তু সিরিয়াস । আই হোপ তুমিও ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নিবে !

— সিরিয়াসলি নিয়ে কি ঘোড়ার মাথা হবে ? আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করো, তারপর যদি অসুবিধা হয় , তো ডাক্তার দেখাও ।
— আমি ডাক্তার দেখিয়েছি লুকিয়ে-লুকিয়েই । কাল বা পরশুর মধ্যে রিপোর্ট এসে যাবে ।

— খুব ভালো কথা । কিন্তু এতে আমি কি করবো জানতে পারি কি ? না মানে কি জন্য ডেকেছো , সেটা বলো।
— দেখো , আমি বাচ্চা মেয়ে নই । আর কি হতে চলেছে , সেটা হয়তো একটু হলেও আন্দাজ করতে পারছি । তাই বলছিলাম কি …….
— ওও , তার মানে এখন তোমার আন্দাজের ওপর নির্ভর করে আমায় চলতে হবে , তাই তো ?

— না না , আমি সেটা বলছি না ।
— তাহলে বলতে কি চাইছিস সেটা বল ।
— আচ্ছা মনে করো এই মুহূর্তে সিরিয়াস কিছু হয়ে গেলো , তখন তুমি কি করবে ?
— তোমার কথার আগাগুড়া আমি বুঝতে পারছি না , যা বলার স্পষ্ট করে বলো ।
— মানে আমি যদি হঠাৎ করে প্রেগন্যান্ট হয়ে যাই , কি হবে তখন ?!
— তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেলো নাকি ! অ্যাতো আজে বাজে কথা কেন বলছো তুমি ?
—- নাগো,,, আজেবাজে না । আমি এমনিই জানতে চাইছি ।

— শোনো, তোমার এসব ভাট শোনার টাইম আমার নেই । দরকারি কাজ আছে আমার , আমি চললাম ।
— আজকাল তুমি বড্ড বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছো !
— মানেটা কি ? আমার কাজ আছে , তাই আমি ব্যস্ত । তুমি ঠিক কি বলতে চাইছো আমায় , বলোতো আমায় !
— না তেমন কিছু না , পরে ভেবেচিন্তে ঠিক করা যাবে ।
— তুমি একটা পাগল আর তোর চিন্তা ভাবনা ঠিক সেরকমই । বিরক্তিকর ! আমি উঠলাম , টাটা ।
— কাল কিংবা পরশু দিন সময় হবে তোমার ?
— জানি না , হলে বলে দেবো ।
— আচ্ছা বেশ , আর ……..
— পরে শুনবো , চললাম ।

______ নীলার চোখের সামনে ফোনে কাকে যেন ম্যাসেজ করতে করতে উঠে বেরিয়ে গেলো শুভ । টেবিলের ওপর থাকা স্যুপ দুটোই পুরো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে । পাতলা একটা আস্তরণ তৈরি হয়ে গিয়েছে স্যুপের গায়ে । নীলা-র গলায় একদলা কান্না যেন হঠাৎ করে আটকে যায় । মনের মধ্যে অদ্ভুত এক অশান্তি ধীরে ধীরে দ্বন্দ্বের প্রাচীর তৈরি করছে । ভিতরে ভিতরে ঘেমে – নেয়ে একাকার হয়ে উঠলেও বাইরে থেকে নীলা নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো ।

— হ্যালো ……. হ্যালো শুভ……. কথা বলো প্লিজ !
— বলো কি শুনতে চাও ?

— কি শুনতে চাই মানে ? তোমাকে যেদিন জানালাম যে রিপোর্ট কার্ডের উত্তর পজিটিভ এসেছে , তারপর থেকে দেখছি তুমিই যেন আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছো । কি ব্যাপার বলতো ?

— আসলে আমার তো তোমাদের মতো ঘরে বসে থাকলে পেট চলবে না , প্রচুর কাজ থাকে , বেরোতে হয় ।

— সে তো বুঝলাম , কিন্তু আমি এখন বাড়িতে কি বলবো , সেটা তো বল !
_তুমি কি বলবে , সেটা তুমিই ভালো জানো । আমায় কেন জিজ্ঞেস করছো !
— তুমি কি মজা করছো ? আমি কিন্তু তোমাকেই সেদিনই বলেছিলাম ………

— দেখো , ফার্স্ট অফ অল , তোমার সঙ্গে যেটা হয়েছে , সেটার জন্য আমি নিজেকে একদমই দায়ী মনে করি না । আমি তো আর দেখে বসে নেই যে তুমি ক’জনের সঙ্গে বিছানায় শুয়েছো !

— শাট আপ শুভ , হোয়াট ডু ইউ মিন বাই দিস ? এসব বলে কি প্রমাণ করতে চাইছো ?

— সেটাই , যেটা তুমি ভাবছো ।

— দ্যাখো শুভ , তুমি কিন্তু আমায় এভাবে অপমান করতে পারো না । নিজের প্রয়োজন মেটার পর আমি ফ্যালনা হয়ে গেলাম , তাই না ?!
— তুমি কোনোদিনই আমার কাছে হাইফাই কেউ ছিলে না । আর সেইদিন রাতে যেটা হয়েছিলো , সেটা তো তুমিও এনজয় করেছিলে । করো নি ?!
— স্টপ ইট ননসেন্স । কি বলতে চাইছো তুমি?
—চেঁচিয়ো না । যা বলবে আস্তে আস্তে বলো , আমি শুনতে পাচ্ছি ।
— একটা কথাই বলতে চাইছি , তুমি কি তোমার বাড়িতে আমাদের ব্যাপারটা জানিয়েছো ?
— কেন বলোতো ? হঠাৎ এই প্রশ্নটার মানে কি ?
— মানে এটাই যে , আমি প্রেগন্যান্ট । এই বাচ্চার বাবা তুমি,,,,,,,

Leave a Comment