চিঠি। ভালোবাসার মূল অস্ত্র।

65 / 100
5/5 - (1 vote)

একদিন একটা চিঠি পেল মনীষা। ভালোবাসায় ভরা হাতের লেখায় লেখা সেই চিঠি। আর কিছুই নয়, সেই চিঠিতে প্রেম নিবেদন করেছে কেউ। কিন্তু সেই ব্যাক্তি আসলে কে তার নাম লেখা নেই চিঠিতে। এতো সুন্দর হাতের লেখা যে কার হতে পারে সেই সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই মনীষার। সে এমন কাউকে চেনেনা যার হাতের লেখা এরকম ছবির মতো। মনীষা শুধুমাত্র হাতের লেখা দেখেই প্রেমে পড়ে যায় চিঠি প্রেরকের।

A letter to my love

সংসারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে এ এক অদ্ভুত ভালোবাসা

আসলে ওর লম্বা চুলই পছন্দ!

        মনীষার বিয়ে হয়েছে আজ ছ মাস হল। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। দেখাশোনা হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বিয়ে হয়ে যায় মনীষার। তার স্বামীর নাম হল প্রণব। প্রণবের বড় ব্যবসা। আর মনীষা ঘর থেকেই একটা ছোট বুটিক চালায়। সচ্ছল পরিবার। কিন্তু ছয়মাস বিয়ের পরেও এখনও লজ্জা কাটেনি মনীষার। বরের সামনে এখনও লজ্জা পায় সে। প্রণবও লজ্জা পায় একটু একটু। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বটে কিন্তু মনের সম্পর্ক হতে এখনও অনেক বাকি।

        সন্ধ্যাবেলা প্রণব বাড়ি ফেরে। মনীষা খেতে দেয়, তারপর আবার রান্নাঘরে চলে যায়। চিঠির ব্যাপারে সে প্রণবকে কিছুই জানায় না। প্রণবও খেয়েদেয়ে আবার নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রাতের বেলা মনীষা ঘরে এসে আস্তে আস্তে প্রণবের পাশে শোয়। প্রণব ততক্ষণে ঘুমের দুনিয়ায় চলে গেছে। মনীষা মনে মনে ভাবে চিঠিটার কথা। তার এরকম অনুভুতি এই প্রথমবার হচ্ছে।

sutapa-halder-p-36

        পরের দিন সকালে প্রণব যথারীতি চলে যায় কাজে। মনীষাও বুটিকের কাজ মিটিয়ে দুপুরে ঘরে এসে বসে। ঠিক সেই সময় সে লক্ষ্য করে যে বালিশের নীচ থেকে উঁকি মারছে একটা কাগজ। সেটা টেনে বের করতেই মনীষা দেখে এটা যে সেই আগের দিনের মতোই আর একটা চিঠি।

সেই একই ছবির মতো সুন্দর হাতের লেখায় প্রেম নিবেদন। মনীষা অবাক হয়ে যায়। যে এই চিঠি লিখছে সে মনীষার বাড়ির ঠিকানা কিকরে জানলো? কিন্তু মনে মনে খুশিও হল সে। সে ভাবতে থাকল পরকীয়া করা কি আদৌ উচিত কাজ? কিন্তু পরক্ষনেই তার মন বাধ সাধল।

তার বিয়ে হয়েছে একজনের সাথে। নিজের স্বামীকে ছেড়ে অন্য একজনের সাথে প্রেম করা মোটেও উচিত নয়। সে ঠিক করল তার স্বামী আজ বাড়ি এলে আজই সে সব কথা বলে দেবে।

sutapa-halder-p-35

        যেমন ভাবা তেমন কাজ। সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরল প্রণব। দুটো চিঠি হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে সংকুচিত মুখে প্রণবের কাছে গেল মনীষা। মনীষা বলল –

  • কিগো শোন, তমায় কিছু বলার আছে।
  • কী বলবে বল? তুমি এতো জড়সড় হয়ে আছো কেন?

হাতের চিঠি দুটো বাড়িয়ে দিল মনীষা। প্রণব নিয়ে খুলল। প্রণব বলল –

  • এগুলো কী?
  • চিঠি। আমায় কদিন ধরে এরকম চিঠি দিচ্ছে কেউ। প্রথমে বলিনি। কিন্তু আজ ঘরে এসে বালিশের নীচে রেখে গিয়েছিলো। আমার ব্যাপারটা ভালো লাগেনি। তাই তোমায় বললাম।
  • ধুর তুমি মজাটাই নষ্ট করে দিলে।
  • মানে!
sutapa-halder-p-03
sutapa-halder

প্রণব পকেট থেকে একটা চিঠি বের করে। মনীষা দেখে যে এটা সম্পূর্ণ মিলে যাচ্ছে আগের গুলোর সাথে। মনীষা বলে –

  • মানে, মানে তুমি এটা দিচ্ছিলে?
  • হ্যাঁ, এই চিঠিটা কাল আমি তোমার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের ভিতর রেখে যেতাম।
  • কিন্তু, তোমার তো হাতের লেখা এরকম নয়।
  • আমি বাম হাতেও লিখতে পারি ম্যাডাম। আমার বাম হাতের লেখা এরকমই। বিয়ের আগে বা পরে ঠিক করে তো কথাই হয়নি। বলব কিকরে?

মনীষা জড়িয়ে ধরে প্রণবকে। আজ সে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে।

Leave a Comment