নিলা আমার দিকে এগিয়ে এসে

13 / 100
Rate this post

আমি নিলার মুখের দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে রইলাম, আর ভাবতে থাকলাম একটা মেয়ে কতোটা নীচে নামতে পারে।ওর চিৎকার শুনে গোটা কয়েক বয়স্ক লোক আর কতোগুলো চ্যাংরা পোলাপান এসে জুটলো।

আমি এখনো বাইকেই চেপে আছি আর নিলার দিকে তাকিয়ে….
— আমি চোর নয় বিশ্বাস করুন। (আমি)
নিলা ওই লোকগুলোকে দেখিয়ে….
— এই যে আপনারাই দেখুন এই ছেলে কি এই বাইকটা কেনার যোগ্যতা রাখে?(নিলা)
আমার পরনে জামাকাপড় ও আমার অবস্থা দেখে ওই লোকগুলোও বলল….
— দেখে তো মনে হয় না এই বাইক এই ছেলের।
ভাব দেখানোর একটা চ্যাংড়া পোলাদের মধ্যে একটা পোলা আমার সামনে এসে…

— এই শালা বাইক চুরি করে কই পালাস।
এটা বলেই ও বাইকের হ্যান্ডেলে হাত দিলো, আমি পোলাটার দিকে রেগে তাকিয়ে…..
— বাইকে টার্চ করবেন না। 😡
নিলা আমার দিকে এগিয়ে এসে…..

— দেখেছেন সবাই ছেলেটার মুখে কি বুলি? এক তো চুরি করেছে আবার উঁচু গলাতে কথাও বলছে, হাহাহাহা চোরের মায়ের বড়ো গলা। (নিলা)– নিলা প্লিজ সিন ক্রিয়েট করবেন না, আমি আবারো বলছি আমি চোর না। 😡😡আমি মেজাজ দেখিয়ে কথাটা বলতেই ও সোজা আমার জামার কলার ধরলো এবং আমাকে টেনে বাইক থেকে নামিয়ে….

— মেজাজ কাকে দেখাস তুই? 😡😡আমার কলার ধরাতে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আর এটাতে আমার ভীষনভাবে মাথা গরম হয়ে গেলো, নাহ আর সহ্য হচ্ছে না নিলাকে এবার একটা উচিত শিক্ষা দিতেই হবে।

আমি নিলাকে আবারো ঠান্ডা মাথায়…..
— কলারটা ছাড়ুন….
— না ছাড়বো না।
— ছাড়ুন 😡😡
— না।

আমি এবার সজোরে একটা নিলার গালে থাপ্পড় মারলাম।
এবং নিলার হাতটা ছাড়িয়ে চিৎকার করে চারিদিকে ঘুরে……
— আমি চোর না 😡😡 ওয়েট আপনাদের এভিডেন্স চাই তো।
এটা বলেই আমি পকেট থেকে ফোন বের করে রোমানকে কল দিলাম আর এখানে আসতে বললাম।

নিলা রেগে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর গালটাতে মাঝে মাঝে হাত বুলাচ্ছে। হয়তো থাপ্পড়টা খুব জোরেই মারা হয়ে গেছে রোমান এবার আমাদের কাছে আসতেই আমি রোমানের কাছে গেলাম আর বাইকটার দিকে আঙুল তুলে….
— দোস্ত এই বাইকটা কার?(আমি)
— কেন আমার, কিছু হয়েছে কি? (রোমান)
আমি রোমানকে আর কিছু না বলে নিলার সামনে গেলাম আর মাথা উচু করে ওর সামনে….

  • কি হলো আর প্রমান লাগবে? 😡😡
    নিলা কোনো কথা না বলে গালে হাত দিয়ে আমার দিকে ঘৃনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আর ঘাড় নেড়ে….
    — না আর লাগবে না।
    সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে তামাশা দেখছে।
    — নিলা সবার সামনে আমায় সরি বলেন……
    নিলা আমার কথাটা শুনে…
    — মাই ফুট তোকে সরি বলবে। 😡
    — সরি বলুন সবার সামনে 😡
    — বললাম না আমার ফুট বলবে…..
    আমি এবার চিৎকার করে…..
  • কিহহহহহহহ একটা ডাকতেই আপনারা তামাশা দেখতে চলে এলেন, এসে তো দাঁড়িয়েই ছিলেন একটা বারো এগিয়ে এসে সত্যি কি মিথ্যা প্রমান করার ট্রাই করেননি তো, যাইহোক ছাড়ুন এখন এই মেয়েকে কি করা দরকার আপনারাই বলুন? আমাকে এভাবে পথের মাঝে দাঁড় করিয়ে আপনাদের সামনে অপমান করা হলো এর শাস্তি কি?
    সবাই এবার আমাদের দিকে এগিয়ে এলো এবং বলতে থাকল….
    — মাফ চাক মেয়েটা আপনার থেকে।
    এটা শুনে নিলা আরো জ্বলে উঠল, আমি পাব্লিকের কথা শুনে মুচকি হেসে নিলার দিকে তাকালাম আর নিলার ক্লোজে গিয়ে ফিসফিস করে…
    — কি ম্যাম জ্বলছে নাকি? খেলাটা আপনি শুরু করেছেন আর শেষটা করবো আমি? (আমি হেসে)

নিলা আমার চোখের দিকে তাকালো আর খুব রেগে…..
— তোকে আমি দেখে নেবো।
— আরে আরো কতো কাছে যাবো, দেখুন না আমায় চোখ খুলে দেখুন। তবে আমার মাফ আপনাকে আজ চাইতেই হবে।
মেয়েটা এবার সামনে পড়া থাকা চুলগুলো ঠিক করে আমার দিকে তাকিয়ে…..
— প্লিজ অভ্র সবার সামনে সিন ক্রিয়েট করবেন না।
— ওমা সিন ক্রিয়েট তো আপনিই করেছেন।
— এই বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, আমি চাইলে তোকে….
— হ্যাঁ আমাকে বদনাম করবেন তো করুন না, শকুনের অভিশাপে কি আর গরু মরে। হাহাহাহা।

নিলা রেগে মাটিতে লাথি মার‍তে লাগলো আর আমি আবারো চিৎকার করে….
— কি হলো আপনাদের বিচার কোথায় এখনো তো আমায় এই মেয়ে সরি বললো না…….(আমি)
আমার কথা শুনে সবাই আমার পাশে দাঁড়ালো এবং নিলাকে….
— এই মেয়ে ভুল করেছো তুমি ক্ষমা চাও এর থেকে, কি হলো মাফ চাও, এক তো ভুল করেছো আবার মাফ চাইতে চাইছো না এটা কিরকম শিক্ষা পরিবারের।
আরো অনেককিছু পাব্লিক বলতে লাগলো, নিলা অবশেষে সেগুলো শুনতে না পেরে দুকানে হাত দিয়ে….

— স্টপিড 😡😡
আমি নিলার সামনেই এখনো দাঁড়িয়ে আছি আর সবার মুখের সামনেই…
— ও হ্যালো ম্যাম এটা আপনার বাসা না এটা পাব্লিক প্লেস সো এখানে আপনার কেউ মেজাহ সহ্য করবে না।
নিলা বড্ড বেশি রেগে গেছে, গোটা মুখটা লাল হয়ে গেছে। আর সাপের মতো ফুঁসতে ফুঁসতে….
— ওকে সরি মাফ করবেন আমায়।(চিৎকার করে পাব্লিকের সামনে)
আমি হাল্কা হেসে সবার সামনে….
— আমার পরিবার আমায় এটা নিশ্চয় শিক্ষা দিয়েছে কেউ ভুল করলে তাকে মাফ করে দেওয়ার।

নিলা আর একটা কথা না বলে সোজা চলতে শুরু করলো, আমি এবার পিছন থেকে….
— এই যে নিলা ম্যাম….
এটা শোনা মাত্রই নিলা দাঁড়িয়ে গেলো এবং আমি ওর সামনে যেতেই নিলা আমার দিকে তাকিয়ে……
— জানি আমার থেকে এখম তুই ক্ষমা চাইতে এসেছিস, আরে লেভেল দেখতে হবে তো, কোথায় আমি এই শহরের টপ বিজনেস ম্যানের মেয়ে আর কোথায় তুই একজন মিডিল ক্লাস ফালতু বয়।

হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া বওয়া শুরু করলো, আমার মাথার লম্বা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাওয়াতে আমি ওগুলোকে ঠিক ঠিক করতে করতে নিলার দিকে হাসি মুখে…..
— শুনেন ম্যাম আপনি বিজনেস ম্যানের মেয়ে নাকি কোনো মন্ত্রীর মেয়ে সেটা আমি জানতে চাইনি একটাবারো। বাপের নাম না নিয়ে নিজে একটা নাম কামান, বাপের নামটা নিয়ে সব জায়গায় চালিয়ে দেওয়াটা শুধুমাত্র ফুটানি বলে কোনোরকম যোগ্যতা না। বাপের টাকায় সবাই ইঞ্জয় করতে পারে বাট যখন কামাতে শিখবেন তখন বুঝবেন একটা সিকিরো কতটা মূল্য। আর হ্যাঁ আমি আপনাকে সরি টরি বলতে আসিনি আর আপনি এর যোগ্যও নন, আমি এসেছি আপনার হাতে থাকা বাইকের চাবিটা আনতে। দিলে খুব খুশি হতাম।
এটা বলেই চুলগুলো মাথার মাঝে রাখলাম আর মুখে আরো হাসি আনলাম। এসব মেয়েকে হাত দিয়ে নয় হাসিমুখে বেশি জব্দ করা যায়। অনেক সহ্য করেছি আর না নিলা ম্যাম। বুকের পাজর দিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়বো এবার।
নিলা এবার তড়িঘড়িতে আমার হাতে বাইকের চাবিটা দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে….

— রাসকেল…
আমি মাথা নীচু করে…
— থ্যাংকিউ ম্যাম। 😊
মেয়েটা আরো রেগে আমার সামনে থেকে চলে গেলো।
আমি এবার বাইকের চাবিটা নিয়ে রোমানকে গিয়ে দিলাম।
টিউশন সেরে মেসে ফিরছি, বড্ড খুদা লেগেছে যাই দশ টাকার ফুচকা খাই, তখনই মনটা বলে উঠলো দশ টাকার ফুচকা খেলে তিনশো টাকা থেকে দশ টাকা কমে যাবে তো। কিন্তু পেট তো কথা শুনছে না খুবই খুদা লাগছে তাই আমি ফুচকার দোকানে গিয়ে দশটাকার ফুচকার প্লেটটা নিয়ে একটা সাইডে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছি।

কোথা থেকে নিলা যেন আমার সামনে এলো আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে….
— কি হলো একাই খাচ্ছেন যে, আমি যে সামনে আছি আমায় খাইয়ে দেবেন না। (নিলা)
নিলার হাসিমুখে কথাটা শুনে আমার মনে কেমন একটা সংশয় হতে লাগলো, আমি আবারো ওর দিকে তাকিয়ে….
— আর সিরিয়াস, আর আমি আপনাকে কেন ফুচকা খাওয়াবো হুম? (আমি)
— আরে বাবা ফুচকার দামটা আমিই না হয় দেবো এতো চটছেন কেন?
— সরি আপনাকে দেওয়া লাগবে না, আর হ্যাঁ আমার কাছে যথেষ্ট টাকা আছে আমি দিতে পারবো।
এটা বলেই আমি সব ফুচকা গুলো খেয়ে টাকা মিটিয়ে পথ চলতে শুরু করলাম। কিন্তু নিলা তো আমার পিছুই ছাড়ছে না।
আমি এটা নোটিশ করে হাত গুটিয়ে দাঁড়ালাম রাস্তার সাইডে এবং নিলা আমার সামনে আসতেই…..

— প্রব্লেম কি? 😡😡 আমার পিছু নিয়েছেন কেন?
— কেন পিছু বুঝি নিতে পারি না।
— না।
— আচ্ছা আমার একটা হেল্প করবেন?
— না পারবো না, আমার মতো মধ্যবিত্ত ছেলেদের কাছে কি হেল্প লাগবে শুনি?
— না মানে শুনলাম আপনার হ্যান্ড রাইটিং খুবই সুন্দর তাই যদি আপনি আমার বফের জন্য একটা লাভ লেটার লেখে দেন তো আমি খুব খুশি হবো।
— সরি আমি পারব না, আমার অনেক কাজ আছে
এটা বলেই আমি চলতে শুরু করলাম।
নিলা আমার সামনে এসে বারেবারে রিকুয়েস্ট কর‍তে থাকলো আর এটা আমার মনকে গলিয়ে দিতে বাধ্য হলো…
— আচ্ছা পেন আর কাগজ দেন। আর বলুন কি লেখতে হবে?
— ওকে, লেখুন…..

   ওহে প্রিয়, তোমায় যেদিন প্রথম দেখেছি সেদিনই কেমন তোমার ওই মায়াবী দুচোখের প্রেমে পড়ে গেছি। তোমায় ছাড়া সারাদিন কিছু ভাবতে পারি না, তোমায় আমার দুচোখের সামনে রাখতে ইচ্ছা করে সবসময়, কিন্তু ভয়ে তোমায় বলতে পারছিনা। তোমায় বুকের মাঝে রাখবো সবসময় খুব যত্ম সহকারে যদি তুমি চাও বুকের ওই কার্নিশে তোমার জন্য একটা পার্মানেন্ট জায়গাও করে দেবো। তুমি আমার জীবনে এলে আমার অন্ধকার জীবনে নতুন এক আলোর সুভাষ পাবে। তোমায় আমি হারাতে চাই না। আমি তোমার সমুদ্রের কিনারা হতে চাই আর তুমি সমুদ্রের ঢেউ।  তোমার ঢেউ যতোবার আসবে ততবারই আমার সমুদ্র কিনারার বুকে এসে স্পর্শ করবে, হ্যাঁ আমি এভাবেই তোমায় ভালবাসতে চাই যেখানে শুধুমাত্র আমি আর তুমি। 😊ভালোবাসি তোমায় খুব ভালোবাসি। আবারো বলছি খুবই ভালোবাসি। 

ইতি,
তোমার ভালোবাসার মানুষ।
আমি সবটা লেখে নিলার হাতে দিতেই ও কেমন আমার দিকে হেসে তাকালো। আমি আর কোনোরকম ওর সাথে কথা না বলে সোজা মেসে চলে এলাম।
পরেরদিন সকালে কলেজ যেতেই…… 😱😰

Leave a Comment