প্রবীরের ভালোবাসা

73 / 100

প্রবীরের ভালোবাসা

আমাদের প্রেমটা শুরু হয়নি একগুছু গোলাপে বরং কবিতার ছন্দে শুরু হয়েছিল আর সিকিমের কাঁপনিতে।

‘তোমার প্রেমের উষ্ণতায়
আমার শীত কাটুক,
গভীর রাতের ঠান্ডায়,
খানিক প্রেম বাঁচুক’।

এই চার লাইন এর ছন্দে যে প্রেম শুরু হয়েছিল তা আজ ছন্দেই অপেক্ষারত।_

আসলে ওর লম্বা চুলই পছন্দ!

একাকীত্ব না ভালোবাসা ?

সন্তানের মা হলে কি ভালোবাসা বারণ ?

নিজেকে খুশি রাখা দরকার। কাউকে ভালোবাসাটা দরকার।

সিকিমে যাত্রা
পুলিসের চাকরি অথএব বদলি তো হবেই, নতুন জায়গা গুছিয়ে উঠতে খানিক সময় লাগলো। তবে মিশুখে ছিলাম মানিয়ে নিলাম সবার সাথে।

sutapa-halder-p-26

দু’মাস পর….
আমার উচুঁ পদের স্যার তার পরিবার নিয়ে এলেন সিকিম ভ্রমণে,
তার একটি মেয়ে ছিল নাম তার বণ্যা, যেমন গূণবতী তেমন রূপবতী।

আস্তে আস্তে ভালোই বন্ধুত্ব হয়েছিল , তার কথায় ছিল সততা, চোখ ছিল মায়া জড়ানো, চুলে ছিল সুন্দর ঘ্রাণ, সে ছিল সাইকোলজিতে বিখ্যাত, ভালো না বেসে থাকা যায় না।

একদিন সন্ধ্যায়…
বণ্যা খুব ঘুরতে ভালোবাসে তাই তাকে নিয়ে বেরোতে হল, তার মা বাবা কাল দিয়ে ঘুরতে যাবে।

sutapa-halder-p-25

রাস্তায় দু’জন হাঁটছি, অল্প অল্প ঠান্ডা পড়েছে, বণ্যা খুব বক বক করতো , সে বকে যাচ্ছে আর আমি তার দিকে আড় চোখে চাইছি পাছে সে দেখে না পেলে, হঠাৎ সে আমার হাতটা জোড়ে চেপে ধরে, ‘সেই প্রথম স্পর্শ’।

  • বণ্যা ভয় নেই , আপনি পড়বেন না,
  • না পাহাড়ি রাস্তা ,আপনার হাত ধরে আমি যাব।

বাইশে এপ্রিল…
বণ্যার মা বাবা বেরিয়েছেন, বণ্যার শরীর ভালো নেই তাই সে যায় নি, আমার উপর ভার পড়েছে ওর খেয়াল রাখার, সন্ধ্যে হতেই বৃষ্টি নেমেছে, তাই বণ্যার ঘরে ওকে দেখতে গেলাম, দেখলাম জানলা আটকাতে গিয়ে সে জলে ভিজে গেছে, আমি সাহায্য করতে গিয়ে ভিজে গেলাম।

sutapa-halder-p-24

বণ্যা ~ আপনি তো ভিজে গেছেন?
প্রবীর ~ হ্যাঁ চেঞ্জ করে আসছি।
বণ্যা ~ কোথায় যাচ্ছেন? বাইরে জোড়ে বৃষ্টি পড়ছে!বাবার একটা জামা পড়ে নিন, বাবাকে বুঝিয়ে বলবো আমি।

সবে জামা পড়লাম আর স্যারের ফোন…
স্যার ~ হ্যালো প্রবীর বৃষ্টির জন্য আসতে পারছি না আমরা, তুমি বণ্যাকে দেখো।
বণ্যা ~ কী বললো বাবা?
প্রবীর ~ আসতে পারছে না তাই।

বিদ্যুৎ যাওয়াতে বণ্যা আমায় জড়িয়ে ধরলো, ‘ দিত্বীয় স্পর্শ’।
প্রবীর ~ কোনো ভয় নেই আমি আছি,
বণ্যা ~ সারাজীবন থাকবেন তো?
প্রবীর ~ মানে?
বণ্যা ~ কিছু না, মোমবাতি টা আনি!

sutapa-halder-p-32

কিছুক্ষণ চুপচুপ কাটল, চোখে চোখে কথা হলেও সাহস হল না মুখে বলার কিছু।
আচমকা জোড়ে বাজ পড়াতে সে চিৎকার করে উঠতে বললাম – ‘ কিছু হবে না ‘।

বণ্যা ~ শুনুন
প্রবীর ~ বলুল
বণ্যা ~ ‘তোমার প্রেমের উষ্ণতায়,
আমার শীত কাটুক’,
প্রবীর ~ ‘গভীর রাতের ঠান্ডায়,
খানিক প্রেম বাঁচুক’।
প্রবীর ~ ভালো কবিতা বলেল আপনি!
বণ্যা ~ মানে? আপনাকে আমি ভালোবাসি , তাই বললাম।
কিছুক্ষণ অদ্ভূত অনুভূতি হল, আসলে প্রথম ভালোবাসা।
তারপর বললাম…
প্রবীর ~ না মানে,
বণ্যা ~ কী মানে মানে করছেন? আমি মেয়ে হয়ে বলছি আর আপনি? যা বলবেন চোখে চোখ রেখে বলুন,
প্রবীর ~ আমিও তোমায় ভালোবাসি।
” নারী – পুরুষ আলাদা নয়,
সবাই পারে ভালোবাসতে,
যদি সে রয়,
আমিও পারব রেখে দিতে।”

sutapa-halder-p-22

বণ্যা ~ ভালো বললেন…
হাওয়ায় মোমবাতিটা নিভে গেলো, বণ্যার ঠোঁট আমার ঠোঁট স্পর্শ করলো,
“সেই প্রথম চুম্বন “।

পরের দিন ভোরে বৃষ্টি থামতে ঘরে এলাম, স্যারেরা ও এলেন।
বণ্যা ~ কী করছো?
আমি যত পারি এড়ানোর চেষ্টা, ভাবলাম বড়লোকের মেয়ে এসব ভালোবাসা কী বুঝবে?
বণ্যা ~ তুমি কী ভাবলে মজা করছি আমি? সেই প্রথম দিন দিয়ে তোমায় ভালোবাসি, জানি না কখন কী ভাবে! আর বড়লোক? আমি না আমার বাবা, আমরাও ভালোবাসতে পারি।
প্রবীর ~ আমার ঠোঁট অজান্তে ওর ঠোঁট স্পর্শ করলো, না সরি।
বণ্যা ~ চলো ঘুরে আসি।
প্রবীর ~ এখন? এই সকালে?
বণ্যা ~ চলো তো।

………………………………….
প্রবীর ~ ভুল বোঝার জন্য তখন সরি।
বণ্যা ~ হয়েছে, বাড়ি চলো।

sutapa-halder-p-46

—–—–

স্যার ~ প্রবীর একটু যাও না, বণ্যা আটকে গেছে রাস্তায়
প্রবীর ~ যাচ্ছি স্যার।
বণ্যা ভয় নেই আমি এসে গেছি।
বণ্যা ~ প্রবীর, খুব ভয় পেয়েছিলাম।
প্রবীর ~ এসো এখানে বসো।
আমায় ছাড়া এলে কেন?
বণ্যা ~ তুমি কাজে গিয়েছিলে।

আমার দেহ বণ্যার দেহের উপর, প্রথম মিলনতা, তখন মনে হচ্ছিল বণ্যাই সব, ওকে ছাড়া আমি কিছু না, সে অনুভূতি বড়ই মায়া জড়ানো।
ঘুম ভাঙলো বণ্যার ডাকে।

বণ্যা ~ বাড়ি যাবে না?
প্রবীর ~ হ্যাঁ, চলো।

sutapa-halder-p-07

দু’ জন দু’ জনের দিকে তাকিয়ে হাসা ছাড়া কিছু করার নেই। বাড়ি ফিরলাম শেষমেষ।

স্যার ~ তোমরা এসেছো?
প্রবীর ~ হ্যাঁ
স্যার ~ যাও ফ্রেস হও।

বণ্যা ~ এসো আমার সাথে।
প্রবীর ~ এখন আবার কোথায়?
বণ্যা ~ বাবাকে আমাদের বিয়ের কথা বলবো।
প্রবীর ~ এত তাড়াতাড়ি?
বণ্যা ~ কেন আমায় ভালোবাসো না? বিয়ে করবে না?
প্রবীর ~ তা না।


~ বাবা কথা ছিল।
~ হ্যাঁ মা বল,
~ আমি প্রবীরকে ভালোবাসি আর ওকেই বিয়ে করবো।
কিছু সময় পর _

~ বাজিয়ে দি বিয়ের সানাই কি বল প্রবীর?
~ হ্যাঁ স্যার কি!
~ মত আছে আমার তোমাদের বিয়েতে।

sutapa-halder-p-21

বণ্যা ~ দেখলে বাবা রাজি।
প্রবীর ~ এত তাড়াহুড়ো করলে কেন?
বণ্যা ~ তোমার বাচ্চার মা হয়ে যায় যদি।

বণ্যা তুমি এখানে?
তোমায় দেখতে ইচ্ছে করছিল।
যাও ঘুমাও, কাল ভোরে দধিমঙ্গল, আর আমি তোমারি আছি, কোনদিন ছেড়ে যাবো না।

বিয়ের দিন_
দুপুরে গায়ে হলুদের পর সে গেছে কন্যে সাজতে , কিন্তু বিকেল হয়ে বিয়ের সময় হয়ে এল বণ্যা আসে না , হঠাৎ খবর পেলাম ওদের গাড়ি আক্সিডেন্ট করেছে, উদভ্রান্তের মতো ছুটে গেলাম, ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানলাম সে আর নেই , বাকীরা বাঁচলেও সে আমাদের ফাঁকি দিয়েছে।

সেদিন কাঁদিনি, শুধু বণ্যার মুখের দিকে তাকিয়ে নীরবে বলেছিলাম, তুমি কথা রাখলে না।

রুমার কথা | ভালোবাসা কী সত্যিই আমি জানি না

Heart – Sad Love Story

তোর বউয়ের তো ৭মাস চলছে

—————–
আহুতি ~ খুব ভালোবাস বণ্যাকে?
প্রবীর ~ যার প্রত্যেক টা কথা, ছোঁয়া, প্রতিশ্রুতি আজ ও অবিকল মনে আছে তাকে ভালোবাসি কিনা প্রমাণ লাগবে?
আহুতি ~ তুমি ফেরেছো ভালোবাসতে আমি পারি নি।

…..*…..
“শুনেছি ভালোবাসা অমর,
তবে তুমি আমার,
তোমাতেই আমি,
আমাতেই তুমি,
তাই হয়তো_
তোমার দেওয়া কথা,
আজও আছে সেথা।

আজ বাইশে এপ্রিল,
বণ্যা আজ আমরা আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলাম, মনে পরে তোমার বণ্যা?

sutapa-halder-p-18
          সাতটি বছর শুধু নয়, 

`হাজার বছর যেন হয়`
তোমায় ফুল দিয়ে,
রাঙিয়ে দিতে চাই,
জন্ম নিলে আবার
থাকব শুধু তোমার,
তোমার কপাল রাঙবে,
আমার হাতের স্পর্শে।

Leave a Comment